
আমাদের অনেকেরই ছোটবেলায় বাংলাদেশ টেলিভিশনে প্রতি বৃহস্পতিবার এবং শুক্রবার বিকাল বেলা যে চলচ্চিত্র প্রদর্শন করা হতো তাতে আমরা যাদের অভিনয় শৈলী দেখে খুবই মুগ্ধ হতাম তাঁদের মধ্যে অন্যতম দুইজন ছিলেন শাবানা আলমগীর জুটি।
বাংলাদেশের জনপ্রিয় চলচ্চিত্রাভিনেতা আলমগীর যিনি মূলত আশি ও নব্বইয়ের দশকে দাপটের সঙ্গে কাজ করেছেন।
পারিবারিক টানাপোড়েন, সামাজিক অ্যাকশন, রোমান্টিক অ্যাকশন, ফোক ফ্যান্টাসিসহ সব ধরনের চলচ্চিত্রে তিনি ছিলেন সফল। অভিনয়ের পাশাপাশি প্রযোজক, গায়ক ও পরিচালক হিসেবে সুনাম কুড়িয়েছেন।
তিনি শ্রেষ্ঠ অভিনেতা ও শ্রেষ্ঠ পার্শ্বচরিত্রে অভিনেতা বিভাগে সর্বমোট নয় বার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অর্জন করেছেন।
উনিশশো পঞ্চাশ সালের আজকের এই দিনটিতে অর্থাৎ তেসরা এপ্রিল ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জন্মগ্রহণ করেন আলমগীর। তাঁর পিতা কলিম উদ্দিন আহম্মেদ ওরফে দুদু মিয়া ঢালিউডের প্রথম সবাক চলচ্চিত্র মুখ ও মুখোশ এর একজন অন্যতম প্রযোজক।
আমার জন্মভূমি দিয়ে চলচ্চিত্রে অভিষেক হয় আলমগীরের উনিশশো তিয়াত্তর সালে । জিঞ্জীর চলচ্চিত্রে রাজ্জাক ও সোহেল রানার সাথে অভিনয় করে তিনি পরিচিতি লাভ করেন।
উনিশশো পঁচাশি সালে নিষ্পাপ চলচ্চিত্র দিয়ে তাঁর পরিচালনায় অভিষেক হয়। মা ও ছেলে ছবিতে দীপক চৌধুরী চরিত্রে অভিনয় করে তিনি শ্রেষ্ঠ অভিনেতা বিভাগে তাঁর প্রথম জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অর্জন করেন।
পরবর্তীতে অপেক্ষা, ক্ষতিপূরণ, মরণের পরে, পিতা মাতা সন্তান, অন্ধ বিশ্বাস, দেশপ্রেমিক চলচ্চিত্রে অভিনয়ের জন্য শ্রেষ্ঠ অভিনেতা বিভাগে আরও ছয়টি জাতীয় পুরস্কার লাভ করেন। উনিশশো ছিয়ানব্বই সালে তিনি নির্মাণ করেন নির্মম।
দুই হাজার দশের দশকে তিনি জীবন মরণের সাথী ও কে আপন কে পর চলচ্চিত্রে অভিনয়ের জন্য টানা দুবার শ্রেষ্ঠ পার্শ্ব অভিনেতা বিভাগে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার লাভ করেন। দুইহাজার আঠারো সালে তাঁর পরিচালিত তৃতীয় চলচ্চিত্র একটি সিনেমার গল্প মুক্তি পায়।

তিনি কণ্ঠশিল্পী হিসেবে চলচ্চিত্রে গান গেয়েছেন। আগুনের আলো চলচ্চিত্রে তিনি প্রথম কণ্ঠ দেন। এরপর তিনি কার পাপে, ঝুমকা ও নির্দোষ চলচ্চিত্রেও গান গেয়েছেন
তিনি বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির সভাপতি হিসেবেও দায়ীত্ব পালন করেন। দুইহাজার বিশ সালে তিনি অর্জন করেন ফজলুল হক স্মৃতি পুরস্কার।

আজ এই গুণী চলচ্চিত্র অভিনেতার একাত্তরতম জন্মবার্ষিকী । লোকজ সাংস্কৃতিক সংগঠনের সকল সদস্য দায়িত্বশীল এবং শুভাকাঙ্ক্ষীবৃন্দের পক্ষ থেকে তাঁকে জানাই জন্মদিনের অনেক অনেক ভালোবাসা, শুভেচ্ছা এবং শুভকামনা।
তারিখ:- ০৩/০৪/২০২১ ইংরেজি
