
“পাণ্ডিত্য দিয়ে ছড়া হয় না। পাখির ডাক, নদীর স্রোত, গাছ-পাতা বুঝতে পাণ্ডিত্যের প্রয়োজন হয় না।’ —
কথা গুলো বলছিলেন বাংলাদেশের সাহিত্য জগতের অন্যতম কিংবদন্তী ছড়াকার হিসেবে সুপরিচিত সুকুমার বড়ুয়া।
চট্টগ্রাম জেলার বিনাজুরী গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন সকলের প্রিয় ছড়াকার সুকুমার বড়ুয়া। তার ছড়াগুলো বুদ্ধিদীপ্ত, তীক্ষ্ণ ও শানিত, কিন্তু কোমল শব্দে লেখা।বাংলা ছড়াসাহিত্যের দিকপাল সুকুমার বড়ুয়া প্রায় ষাট বছর ধরে শুধু ছড়া লিখে ছড়ারাজ, ছড়াশিল্পী,ছড়াসম্রাট সহ নানা অভিধায় অভিষিক্ত হয়েছেন।
তার ছড়াগ্রন্থের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল-পাগলা ঘোড়া, ভিজে বেড়াল, চন্দনা রঞ্জনার ছড়া, এলোপাতাড়ি, নানা রঙের দিন, সুকমার বড়ুয়ার ১০১টি ছড়া,চিচিং ফাঁক,কিছু না কিছু,প্রিয় ছড়া শতক,নদীর খেলা, ছোটদের হাট, মজার পড়া ১০০ ছড়া,যুক্তবর্ণ, চন্দনার পাঠশালা,জীবনের ভেতরে বাইরে ইত্যাদি।
ভাষা ও সাহিত্যে বিশেষ অবদানের জন্য সরকার দুইহাজার সতেরো সালে সুকুমার বড়ুয়াকে সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় সম্মান একুশে পদক প্রদান করে।
এছাড়া তিনি বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার, বাংলাদেশ শিশু একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার, আলাওল সাহিত্য পুরস্কার, চট্টগ্রাম প্রেসক্লাব সম্মাননা, অবসর সাহিত্য পুরস্কার, আনন ফাউন্ডেশন আজীবন সম্মাননা, চন্দ্রাবতী শিশুসাহিত্য পুরস্কারসহ অসংখ্য পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন।
তরুণ লেখকদের সবসময়ই অনুপ্রাণিত করেন সকলের প্রিয় এই মানুষটি। তরুণ প্রজন্মের লেখকদের প্রতি তিনি বলেন,”তোমরা দেখবে বেশি, বলবে কম, লিখতে হবে আরো কম”।
আজ সকলের শ্রদ্ধার এই প্রিয় মানুষটির জন্মদিন। উনিশশো আটত্রিশ সালের পাঁচই জানুয়ারি জন্মগ্রহণ করেছিলেন ছড়াকার সুকুমার বড়ুয়া।
লোকজ সাংস্কৃতিক সংগঠন এর সকল বন্ধুর পক্ষ থেকে তাকে জানাই জন্মদিনের অসংখ্য অসংখ্য অসংখ্য শুভেচ্ছা, ভালোবাসা এবং শ্রদ্ধা।
তারিখঃ- ৫/১/২০২১ ইং।
